
লন্ডন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত যুক্তরাজ্য সফরে এসেছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থমূল্যের একগুচ্ছ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। প্রযুক্তি, বেসামরিক পরমাণু শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতেই দুই মিত্র দেশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে ট্রাম্পের এই সফর আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। প্রথমত, নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উভয় দেশের প্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করা। দ্বিতীয়ত, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে যাতে রাশিয়ার ওপর থেকে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো যায়। সবশেষে, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার বাড়ানো।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বুধবার তিনি উইন্ডসর ক্যাসেলে রাজা চার্লস এবং কুইন ক্যামিলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সন্ধ্যায় একটি জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন ‘চেকার্স’-এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উভয়ে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন এবং বৃহস্পতিবার রাতেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাঁকে যুক্তরাজ্য দুবার রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি এমন সম্মাননা লাভ করেন। এই সফরকে মার্কিন কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে টেমস ভ্যালি পুলিশ মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে। অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ক্রিশ্চিয়ান বান্ট জানান, “সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনা করা হয়েছে।” উইন্ডসর এবং চেকার্সের আকাশসীমাকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং যেকোনো প্রতিবাদ মোকাবিলার জন্য বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা উইন্ডসরে প্রতিবাদের পরিকল্পনা করলেও, সফরের বেশিরভাগ কার্যক্রমই জনসাধারণের নাগালের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে।
