সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি: ইসলামাবাদের পাশে থাকার বার্তা রিয়াধের, সতর্ক নজর দিল্লির

বিশ্ব সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি: ইসলামাবাদের পাশে থাকার বার্তা রিয়াধের, সতর্ক নজর দিল্লির নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো এক পক্ষের উপর হামলা হলে তা উভয় দেশের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে, নয়াদিল্লি এই দ্বিপাক্ষিক ঘনিষ্ঠতার উপর কড়া নজর রাখছে এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত।

নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো এক পক্ষের উপর হামলা হলে তা উভয় দেশের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে যে, নয়াদিল্লি এই দ্বিপাক্ষিক ঘনিষ্ঠতার উপর কড়া নজর রাখছে এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর থেকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। সেই সূত্রেই সৌদি আরবকে একটি কৌশলগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বুধবার সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পরেই এই ‘কৌশলগত এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

এই প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিবৃতিতে জানান, “আমরা সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ভারত সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

সম্প্রতি দোহায় অনুষ্ঠিত ৪০টি ইসলামিক দেশের শীর্ষ সম্মেলনে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে কাতারে হামাস নেতাদের উপর ইজরায়েলি হামলার পর ইসলামিক দেশগুলির মধ্যে ‘ন্যাটো’র আদলে একটি জোট গঠনের আলোচনা শুরু হয়। উল্লেখ্য, ইসলামিক দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তানই একমাত্র পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। অন্যদিকে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির আর্থিক শক্তিও উল্লেখযোগ্য। এই দুইয়ের মেলবন্ধন ভারতের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব এবং পাকিস্তান যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।” ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর থেকেই ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও খবর