
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১৩% পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
সকালের লেনদেন শুরু হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও পরে দাম কিছুটা কমে ৪% বৃদ্ধিতে থিতু হয়েছে, তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বন্ধ থাকায় উদ্বেগ কাটছে না। অন্যদিকে, সংকটের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম ২.৮% বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৯৭.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এশিয়ায় লেনদেনের শুরুতে জাপানের নিক্কেই ২২৫ (Nikkei 225) সূচক ২.৪% পড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ এবং সাংহাইয়ের সিএসআই ৩০০ সূচকেও বড় পতন দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটের প্রাক-বাজার লেনদেনও সোমবার নিম্নমুখী খোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলো এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। শনিবারের হামলার পর তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (UKMTO) জানিয়েছে, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে ইতিমধ্যে দুটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। মেরিন ট্র্যাকিং সাইটগুলোতে দেখা যাচ্ছে, হামলার ভয়ে বা বিমার অভাবে প্রণালীর দুই পাশে অসংখ্য ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে আছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি ‘মায়েরস্ক’ (Maersk) নিরাপত্তা জনিত কারণে হরমুজ প্রণালী এবং সুয়েজ খাল দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচল স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গোয়েজ নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাহাজগুলোকে এই অঞ্চল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোর্হে লিওন বলেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ১.৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে পৌঁছায়। এই পথ বন্ধ হওয়া তেল বাজারের জন্য সবচাইতে বড় ধাক্কা। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই লড়াই আরও চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে। ওপেকের (OPEC+) পক্ষ থেকে উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই তেল ট্যাঙ্কারে করে বের করে আনাই এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ।
