
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশটির নৌবাহিনীর নতুন ৫,০০০ টনের একটি ডেসট্রয়ার বা রণতরি থেকে ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের’ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ তদারকি করেছেন। জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত করার আগেই এর সক্ষমতা যাচাই করতে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) জানিয়েছে, বুধবার ‘চোয়ে হিয়ন’ নামক রণতরি থেকে সমুদ্র-থেকে-স্থলে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালানো হয়। কিম জং উন এই রণতরিকে দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষার ‘নতুন প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া যখন কোনো অস্ত্রকে ‘কৌশলগত’ (Strategic) বলে উল্লেখ করে, তখন সাধারণত সেটি পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র হিসেবেই গণ্য করা হয়।
কিম জং উন নাম্পো শিপইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, “আমাদের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। গত অর্ধশতাব্দীতে আমরা যা অর্জন করতে পারিনি, এই সাফল্য আমাদের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।”
উত্তর কোরিয়ার এই নৌ-আধুনিকীকরণ কর্মসূচি গত বছর একটি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে চংজিন শিপইয়ার্ডে একটি ডেসট্রয়ার পানিতে ভাসানোর সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উল্টে যায়। কিম জং উন নিজে সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন এবং এটিকে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। বর্তমান সফল পরীক্ষাটি সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিম জং উন সম্প্রতি দলীয় কংগ্রেসে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা বললেও, সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকেই তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনকে তিনি অপরিহার্য বলে মনে করেন।
