
গত সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিল নেপাল। দুর্নীতি, স্থবির অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলনে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া বিক্ষোভকারী। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে নেপালের রাজনীতির এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রবীণ রাজনৈতিক শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে পরিবর্তনের ডাক দেওয়া ‘জেন-জি’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। নেপালের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের কারণে ব্যালট বক্স সংগ্রহ ও হাতে গণনা করতে সময় লাগায় চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নেপালের পার্লামেন্টের ২৭৫টি আসনের এই লড়াইয়ে প্রায় ১৯ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষই ছিল প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল। এই নির্বাচনের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হচ্ছে ঝাপা-৫ আসনে, যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে লড়ছেন জনপ্রিয় র্যাপার তথা কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন শাহ। অলি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে তিনি এখনও জনগণের প্রিয়, অন্যদিকে বালেন শাহেরুণ্য ও তেজ নেপালের নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে মনে করছেন তরুণ ভোটাররা।
নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধা পাচার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কাঠমান্ডুর অনেক ভোটার জানিয়েছেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণরা বিদেশে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে, যা রোখাই পরবর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নেপালি কংগ্রেসের গগন থাপা মনে করছেন, ভোটাররা পুরনো ‘অশুভ আঁতাত’ এবং কুশাসনে ক্লান্ত। তবে ‘জেন-জি’ আন্দোলনের নেতাদের একাংশের মতে, মূলধারার দলগুলো তাঁদের দাবিদাওয়াকে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দেয়নি, বরং কেবল তরুণদের আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চাইছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সরাসরি নির্বাচিত ১৬৫টি আসনের ফলাফল গণনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। বাকি ১১০টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, যার প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। গত তিন দশক ধরে নেপালের রাজনীতি মূলত তিনটি দলের চক্রে আবদ্ধ ছিল। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশ কি সেই পুরনো ধারায় ফিরবে, নাকি এক পরীক্ষিত ও নতুন প্রজন্মের হাত ধরে নেপালের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
