
দোহা, কাতার: কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর এক জরুরি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামাস নেতাদের বাসস্থান এবং একটি আলোচনাকারী প্রতিনিধি দলকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দোহায় অবস্থিত হামাসের একজন সিনিয়র নেতার বাসস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় হামাস প্রধান খলিল আল-হায়ার ছেলে এবং তার অফিসের পরিচালকসহ ছয়জন নিহত হন। তবে, হামাসের শীর্ষ নেতারা এই হামলা থেকে বেঁচে গেছেন বলে জানা গেছে।
এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হয় যখন গাজা যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল। কাতার এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল এবং ইসরায়েলি ও হামাসের প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দিচ্ছিল।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এই হামলাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের মোকাবেলা করার জন্য আমরা সবরকম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দোহার জরুরি বৈঠকে যোগ দিয়ে কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে এই হামলা “ইসরায়েল বা আমেরিকার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যায় না।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যাহত হবে। তারা আরও বলেন যে এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে।
তথ্যসূত্র: The Guardian, Al Jazeera, Associated Press
