ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ’ চান ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্য, বিশ্ব ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ’ চান ট্রাম্প ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি ‘অংশগ্রহণ’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর লক্ষ্য হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভেতরেই এমন একজনকে ক্ষমতায় বসানো, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকবেন। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি ‘অংশগ্রহণ’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর লক্ষ্য হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভেতরেই এমন একজনকে ক্ষমতায় বসানো, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকবেন। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনিকে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত করার ঘোর বিরোধিতা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ওরা সময় নষ্ট করছে। খামেনির ছেলে অত্যন্ত দুর্বল। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমাকে যুক্ত থাকতে হবে।” উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্ব ইরানের ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ওপর ন্যস্ত, যার সদরদপ্তরে সম্প্রতি ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানে ভেনিজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মতো কোনো নেতাকে দেখতে চান। গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর রদ্রিগেজ ক্ষমতায় আসেন। মাদুরোর প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও রদ্রিগেজ বর্তমানে ওয়াশিংটনের কথামতো তেল বিক্রি করছেন এবং কিউবায় তেলের জোগান বন্ধ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “ভেনিজুয়েলার ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা আক্রমণ করলাম, সরকার কাঠামো ঠিক থাকল এবং আমরা ডেলসিকে পেলাম—যিনি খুব ভালো কাজ করছেন।”

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে বলেন, “ট্রাম্প আসলে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চাইছেন। তিনি এমন একজনকে খুঁজছেন যিনি তাঁর প্রতিটি নীতি মেনে চলবেন, যেমনটা ডেলসি করছেন। তবে বর্তমান ইরানি ব্যবস্থার ভেতর থেকে এমন কাউকে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনিজুয়েলা ও ইরানের পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে:

ধর্মীয় বিধান: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই একজন উচ্চপদস্থ ইসলামি পণ্ডিত বা ধর্মতাত্ত্বিক হতে হবে।

চলমান যুদ্ধ: ভেনিজুয়েলার অভিযানটি ছিল দ্রুত ও সীমিত, কিন্তু ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত।

জনগণ বনাম ব্যবস্থা: ট্রাম্প আগে ইরানিদের ‘স্বাধীনতার’ কথা বললেও, এখন তিনি ব্যবস্থার ভেতর থেকেই একজন অনুগত ‘পুতুল’ নেতা খুঁজছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পবিত্র শহর কোমে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’-এর ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, উত্তরসূরি নির্বাচনের বৈঠকের সময় এই হামলা চালানো হয়। তবে তেহরান এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভবনটি তখন খালি ছিল এবং নেতা নির্বাচনের কোনো তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

আরও খবর