যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত ফিলিস্তিন: ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় এই হামলাগুলো চালানো হয়।

ফিলিস্তিন: ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজায় এই হামলাগুলো চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা, আর্টিলারি গোলাবর্ষণ, ছোট অস্ত্রের গুলি এবং স্মোক-বোমা ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। গাজা শহরের কেন্দ্রে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে দুজন ছিলেন নারী। এই ঘটনায় আরও অনেকে আহত এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। শহরের জাইতুন, সাবরা এবং আল-নাফাক স্ট্রিট এলাকাতেও যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ কড়া হয় তবে সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গাজা শহরের পশ্চিমে ইয়ারমুক স্কুলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর ড্রোন থেকে গুলি চালানো হয়েছে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শহরের দক্ষিণ-পূর্ব জেলা আল-জাইতুনে গোলাবর্ষণে আরও চারজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এদিকে, সাবরা জেলায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় একই পরিবারের চারজন সদস্য নিহত হন এবং প্রায় ৪০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বলে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স এবং চিকিৎসা সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে।

মধ্য গাজায়, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তর-পশ্চিমে আল-রশিদ স্ট্রিট দিয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ইসরায়েলি গুলিতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হন। খান ইউনিসে, আল-বিয়ুক এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের একটি সমাবেশে বোমা হামলায় একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শহরের হামদ আবাসিক এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আর্টিলারি হামলায় একজন নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলেও জানা গেছে।

তুরস্ক, মিশর, কাতার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মিশরের শারম আল-শেখ শহরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চার দিন ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনার পর বৃহস্পতিবার ভোরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই চুক্তি সত্ত্বেও উল্লেখ্য হামলাগুলো চালানো হয়।

গত ২৯শে সেপ্টেম্বর, ট্রাম্প গাজার জন্য একটি ২০-দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যার মধ্যে প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে সমস্ত ইসরায়েলি বন্দির মুক্তি, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সমগ্র গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে হামাসের অংশগ্রহণ ছাড়াই গাজায় একটি নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনি এবং আরব ও ইসলামিক দেশগুলোর সৈন্য নিয়ে একটি নিরাপত্তা বাহিনী গঠন এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।

আরব ও মুসলিম দেশগুলো এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও কিছু কর্মকর্তা বলেছেন যে এটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য আরও অনেক বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় প্রায় ৬৭,২০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ইসরায়েলি হামলায় এই অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় সমস্ত জনগন বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

আরও খবর