তেল সংকটে স্বস্তি: রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে ভারতকে সবুজ সংকেত দিল আমেরিকা

দেশ, অর্থনীতি, বিশ্ব তেল সংকটে স্বস্তি: রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে ভারতকে সবুজ সংকেত দিল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে ভারতে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য তেল সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের কূটনৈতিক সফলতা পেল নয়াদিল্লি। রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতকে সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩০ দিন ভারত কোনো বাধা ছাড়াই রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে পারবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে ভারতে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য তেল সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের কূটনৈতিক সফলতা পেল নয়াদিল্লি। রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতকে সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩০ দিন ভারত কোনো বাধা ছাড়াই রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে পারবে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, গত ৫ মার্চ থেকেই এই ছাড়পত্রের সময়সীমা শুরু হয়ে গিয়েছে, যা আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেনেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (X) এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই ট্রেজারি বিভাগ ভারতকে এই বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই কেন্দ্র জানিয়েছিল যে ভারতের জরুরি ভাণ্ডারে আর মাত্র ২৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভারত প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। রাশিয়া ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, আমেরিকার আরোপিত শর্ত ও শুল্ক নীতির কারণে এতদিন নয়াদিল্লি কিছুটা সংশয়ে ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে নমনীয়তা দেখাল।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেনেট ভারতকে আমেরিকার “গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার” হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তবে ওয়াশিংটন আশা প্রকাশ করেছে যে ভবিষ্যতে নয়াদিল্লি রাশিয়ার বদলে আমেরিকার কাছ থেকেই তেল কেনা বাড়াবে। রয়টার্স সূত্রে খবর, ভারতীয় জলসীমার কাছে রাশিয়ার প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা এই ছাড়পত্রের ফলে ভারত দ্রুত ব্যবহার করতে পারবে।

বৃহস্পতিবারই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এরপরই আমেরিকার পক্ষ থেকে এই ছাড়পত্রের ঘোষণা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কেবল রাশিয়া ও চিনের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না; এখন রাশিয়ার তেল আমদানির অনুমতি পাওয়ায় ভারত সেই পথটি পরোক্ষভাবে ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।

আরও খবর