কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী? এই পথ বন্ধ হওয়ায় ঠিক কতটা সংকটে ভারত?

দেশ, বাণিজ্য, মধ্যপ্রাচ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী? এই পথ বন্ধ হওয়ায় ঠিক কতটা সংকটে ভারত? মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এখন বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনার কেন্দ্রে ‘হরমুজ প্রণালী’। বিশ্ববাণিজ্যের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এখন বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনার কেন্দ্রে ‘হরমুজ প্রণালী’। বিশ্ববাণিজ্যের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নামার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী।

ভারতের শক্তি নিরাপত্তা এবং কৃষিখাত মূলত এই একটি জলপথের ওপর নির্ভরশীল। কেন এই পথটি ভারতের জন্য ‘লাইফলাইন’, তার প্রধান কারণগুলো –

  • জ্বালানি নিরাপত্তা: ভারতের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে এই পথ অবরুদ্ধ থাকায় এলএনজি (LNG), পিএনজি (PNG) এবং এলপিজি (LPG) সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
  • সার আমদানি ও কৃষি: তেলের পরই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সার। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার এই পথেই পরিবাহিত হয়। সার আমদানিতে বাধা আসায় ভারতের অভ্যন্তরীণ কৃষিখাতে বড় সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • পণ্য রপ্তানি: ভারতের বাসমতী চালের একটি বড় বাজার হলো মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় চাল রপ্তানি ইতিমধ্যেই থমকে গেছে।
  • ধাতব শিল্প: বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম এই অঞ্চল থেকে আসে, যা এখন ভারতের বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দেশগুলো তাদের বাণিজ্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই দেশগুলো থেকে ভারতে আসা সমস্ত পণ্যও এখন আটকে পড়েছে।

বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে কয়েকটি বিকল্প পথের কথা ভাবা হচ্ছে, ১. সৌদি আরবের পাইপলাইন: সৌদির অভ্যন্তরে ৭৪৬ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগরের টার্মিনাল দিয়ে তেল রপ্তানির চেষ্টা চলছে। ২. আমিরাত-ওমান রুট: সংযুক্ত আরব আমিরাতের অয়েলফিল্ড থেকে ওমানের বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ৩. ইরাক-তুরস্ক সংযোগ: ইরাক থেকে তুরস্কের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পাইপলাইনটিকে বিকল্প হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প পথগুলো ব্যয়বহুল এবং এই বিশাল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভারতের অর্থনীতি বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়তে পারে।

আরও খবর