
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়েছেন প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখনই বড় ধরনের কোনো উদ্ধার অভিযান বা ‘ইভ্যাকুয়েশন’ শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির (CCS) বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল। এই অবস্থায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো উদ্ধারকারী বিমান পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। এছাড়া সৌদি আরব, ইরান, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বিশাল সংখ্যক (প্রায় ১ কোটি) ভারতীয়কে একযোগে সরিয়ে আনা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাই আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দূতাবাসের মাধ্যমে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখাকেই শ্রেয় মনে করছে সরকার।
রবিবার রাতে চার রাজ্য সফর সেরে দিল্লি ফিরেই প্রধানমন্ত্রী মোদী উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক ডাকেন। উদ্ধার অভিযান এখনই শুরু না হলেও, সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর (২০২৫) জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার পর একই রকম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সে সময় ভারত অত্যন্ত সফলভাবে ‘অপারেশন সিন্ধু’ পরিচালনা করে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি আরও জটিল ও ব্যাপক হওয়ায় নতুন কোনো অভিযানের বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে বিদেশমন্ত্রক।
যুদ্ধের আঁচ ইতিমধ্যেই ভারতীয়দের গায়ে লাগতে শুরু করেছে। ওমান উপকূলে ইরানের হামলায় ১৫ জন ভারতীয়সহ একটি তেলের ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ইসরায়েলে আটকে পড়া তাদের কর্মীদের উদ্ধারের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
