ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা: শুল্ক-যুদ্ধের আবহে নয়া দিল্লির বৈঠকে বসছে দুই দেশ

দেশ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা: শুল্ক-যুদ্ধের আবহে নয়া দিল্লির বৈঠকে বসছে দুই দেশ নয়া দিল্লি: ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া থেকে ভারতের লাগাতার অশোধিত তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানো হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আয়োজিত হতে চলেছে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, যার দিকে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল।

নয়া দিল্লি: ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া থেকে ভারতের লাগাতার অশোধিত তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানো হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আয়োজিত হতে চলেছে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, যার দিকে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল।

সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যার ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে রাশিয়ার সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আমেরিকার দাবি, এই তেল কেনার মাধ্যমে আদতে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার কোষাগারকেই শক্তিশালী করছে ভারত। এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের রপ্তানিতে, বিশেষত মার্কিন বাজারে, একটি বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি জুলাই মাসের ৮.০১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৬.৮৬ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের দক্ষিণ এশীয় শাখার প্রধান ব্রেন্ডন লিঞ্চ একদিনের সফরে নয়া দিল্লিতে আসছেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী রাজেশ আগরওয়াল। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বর্তমান শুল্ক-সংক্রান্ত অচলাবস্থা কাটানোর রাস্তা খোঁজা।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে আমেরিকার পক্ষ থেকে তাদের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার আরও উন্মুক্ত করার দাবি তোলা হতে পারে। এর মধ্যে ভুট্টা, সয়াবিন, আপেল এবং বাদামের মতো পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক কমানোর প্রসঙ্গটি অন্যতম। অন্যদিকে, ভারত নিজেদের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এই দাবিগুলির বিরোধিতা করে আসছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৈঠকটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দিক থেকেই নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যখন চিনকে প্রতিহত করতে ভারত ও আমেরিকা কোয়াডের মতো মঞ্চে একযোগে কাজ করছে, তখন বাণিজ্যিক সংঘাত সেই সম্পর্কে ছায়া ফেলতে পারে। তাই এই আলোচনার সাফল্য দুই দেশের সার্বিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্যও একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও খবর