
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্র। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতের মোট তেলের চাহিদার ৮৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এই অবস্থায় ভারতের হাতে আর কতদিনের তেলের জোগান রয়েছে, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ভারতের জরুরি ভাণ্ডারে বর্তমানে ২৫ দিনের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত প্রতিদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা তেল সরবরাহ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটে বিকল্প উৎস খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং এলপিজি (LPG) ও এলএনজি (LNG) আমদানির জন্য নতুন পথ খতিয়ে দেখছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও এবং সরবরাহে টান পড়লেও, কেন্দ্র দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। সরকারি সূত্রমতে, এই মুহূর্তে দেশীয় বাজারে পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ২৫ দিনের মজুত শেষ হয়ে যায়, তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
