
দেরাদুন: সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে অতি ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত দেরাদুনের সহস্রধারা এলাকা। এই ঘটনায় অন্তত দুজন নিখোঁজ এবং জলের তোড়ে বহু হোটেল, দোকান ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্ধ রাখা হয়েছে জেলার সমস্ত স্কুল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, রাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়। এক সূত্র মারফত জানা যায়, নিখোঁজ দুজন সম্ভবত নিরাপদেই আছেন এবং অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছেন, তবে তাদের শনাক্ত করে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এটি মেঘভাঙা বৃষ্টি নাকি শুধুমাত্র অতি ভারী বর্ষণ, তা এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক ঋষভ কুমার বলেন, “রাস্তা বন্ধ থাকলেও আমরা সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছি। স্থানীয়দের দাবি, এটি মেঘভাঙা বৃষ্টি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কয়েকটি দোকান ভেসে গেলেও কোনো প্রাণহানির খবর নেই।”
মূল বাজারের বহু দোকানে ধ্বংসাবশেষ ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়। জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি ছোট হোটেল-সহ একাধিক ভবন। রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি এসডিআরএফ (SDRF) এবং দমকল বাহিনীও।
দেরাদুন জুড়ে বৃষ্টির তাণ্ডবের বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। প্রশাসন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদ ও সতর্ক থাকতে বলেছে।
তমসা, টনস এবং সোং-সহ জেলার প্রতিটি নদীই ভয়ংকর রুপ ধারন করেছে। রাতের প্রবল স্রোতে মালদেভতার সংযোগকারী সেতুটি ভেসে যায়, যার ফলে গোটা এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন। বিখ্যাত টপকেশ্বর মহাদেব মন্দিরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়; মন্দির চত্বরের প্রায় পুরোটাই এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। সেখানে রাখা চেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী জলের তোড়ে ভেসে যায়। পার্শ্ববর্তী ঋষিকেশ এবং মুসৌরি থেকেও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির থেকে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। তাঁরা সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই সংকটকালে কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পাশে কেন্দ্র দৃঢ়ভাবে আছে। মুখ্যমন্ত্রী ধামি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক দল সম্পূর্ণ সক্রিয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণকার্য চলছে।
