যুদ্ধের আতঙ্কে বাংলায় তেলের হাহাকার: নদিয়ার পাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড়, শেষ হয়ে যাচ্ছে মজুত

অর্থনীতি, দেশ, পশ্চিমবঙ্গ যুদ্ধের আতঙ্কে বাংলায় তেলের হাহাকার: নদিয়ার পাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড়, শেষ হয়ে যাচ্ছে মজুত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে তেল সংকট তৈরি হতে পারে— এই আশঙ্কায় নদিয়া জেলাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত দু-তিন দিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড় এবং তেল কেনার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক পাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে তেল সংকট তৈরি হতে পারে— এই আশঙ্কায় নদিয়া জেলাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত দু-তিন দিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলিতে উপচে পড়া ভিড় এবং তেল কেনার হিড়িক দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক পাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে ধান চাষের মরসুম হওয়ায় পাম্পগুলিতে সেচের জন্য ডিজেল কিনতে ভিড় করছেন বহু চাষি। রানাঘাট ও কৃষ্ণনগর সংলগ্ন এলাকার পাম্পগুলিতে ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এক চাষি জানান, “শুনছি যুদ্ধের জন্য আর ডিজেল পাওয়া যাবে না, তাই চাষের কাজের জন্য আগেভাগেই মজুত করতে এসেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও তেল পেলাম না।”

কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি জানিয়েছিল যে ভারতের ভাণ্ডারে আর মাত্র ২৫ দিনের তেল মজুত রয়েছে। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এখনই দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে আশ্বাস দিয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকেছে যে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘকাল বন্ধ থাকলে দেশ তেলশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এই আতঙ্ক থেকেই মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে ঘরে মজুত করার চেষ্টা করছেন।

তেল সংকট নিয়ে জেলায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “গুজবে কান দিয়ে তেল মজুত করবেন না। ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে এবং বিকল্প পথেও তেল আনার ব্যবস্থা হচ্ছে। অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।”

তৃণমূলের পাল্টা দাবি, কৃষ্ণনগর জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি অয়ন দত্তের মতে, “কেন্দ্রীয় সরকার ২৫ দিনের মজুতের কথা বলে সাধারণ মানুষের মনে অযথা আতঙ্ক তৈরি করেছে। গ্যাসের দাম ও তেলের দাম বাড়ার ভয়েই মানুষ পাম্পে ভিড় করছেন।”

পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গত দুই দিনে তেলের বিক্রি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ক্রমাগত বিক্রির ফলে ডিজেলের স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে জোগান আসার আগেই পাম্প ‘ড্রাই’ হয়ে যাচ্ছে। তবে পেট্রোল এখনও পাওয়া গেলেও তাতেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আরও খবর