গাজায় যুদ্ধবিরতির নয়া মার্কিন প্রস্তাব, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্য গাজায় যুদ্ধবিরতির নয়া মার্কিন প্রস্তাব, নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসি: গাজা ভূখণ্ডে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউস একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাবে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইজরায়েলের পক্ষ থেকে চুক্তিটি প্রকাশ্যে মেনে নেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সকল পণবন্দীকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি: গাজা ভূখণ্ডে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউস একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই প্রস্তাবে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইজরায়েলের পক্ষ থেকে চুক্তিটি প্রকাশ্যে মেনে নেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ও মৃত সকল পণবন্দীকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে এই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পরিচালনার জন্য একটি অস্থায়ী গভর্নিং বোর্ড গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় গাজার বাসিন্দাদের ভূখণ্ডেই থাকতে উৎসাহিত করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, হামাস যদি এই শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের পরাজিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে ইজরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও জানান, এই চুক্তির অধীনে ইজরায়েল “ধাপে ধাপে” গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যদি উভয় পক্ষ চুক্তিতে সম্মত হয়, তাহলে “অবিলম্বে যুদ্ধ শেষ হবে”। পণবন্দী মুক্তির প্রস্তুতির জন্য ইজরায়েলি বাহিনী নির্দিষ্ট স্থানে সরে আসবে। এই পরিকল্পনায় গাজাবাসীদের ভূখণ্ড ত্যাগের কোনো শর্ত রাখা হয়নি।

পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবে গাজায় হামাসের শাসনের অবসান এবং গোষ্ঠীটির সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

গাজার বেসামরিক বিষয়গুলো তদারকির জন্য প্রাথমিকভাবে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠন করা হবে। পরবর্তীতে, সংস্কারকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, “মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক ও সমৃদ্ধ শহরগুলো গড়ে তুলতে সহায়তাকারী বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল তৈরি করে গাজা পুনর্গঠনের জন্য একটি ট্রাম্প অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।” অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে শুল্ক ও বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা থাকবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “নতুন গাজা তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকল পণবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার পর ইজরায়েল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ২৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরে হামাসের অতর্কিত হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধকালে আটক ১,৭০০ জন গাজাবাসীকে মুক্তি দেবে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, যে সমস্ত হামাস সদস্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে এবং অস্ত্র ত্যাগ করবে, তাদের সাধারণ ক্ষমা প্রদান করা হবে। যারা গাজা ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্য কোনো দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে বলা হয়েছে যে জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে উভয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই গাজায় ত্রাণ বিতরণ চলবে। রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকে খোলার বিষয়টি ২০২৫ সালের ১৯শে জানুয়ারির চুক্তি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, গাজার পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কারের সাথে সাথে “ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র গঠনের একটি বিশ্বাসযোগ্য পথের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং মিশরীয় গোয়েন্দা প্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ২০ দফা পরিকল্পনাটি হামাসের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আলোচনা সম্পর্কে অবগত একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাসের আলোচকরা “সদিচ্ছার সঙ্গে” পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও এই শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। স্টারমার বলেন, “আমরা সকল পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মিলে এই চুক্তি চূড়ান্ত করে এবং এটিকে বাস্তবে রূপ দেয়। হামাসের উচিত অবিলম্বে এই পরিকল্পনা মেনে নিয়ে অস্ত্র ত্যাগ করা এবং সকল পণবন্দীকে মুক্তি দেওয়া।”

আরও খবর