বাবার বকুনির জেরে প্রতিবেশীর শিশুকে ৩০ ফুট টিলা থেকে ছুড়ে ফেলল কিশোর

দেশ বাবার বকুনির জেরে প্রতিবেশীর শিশুকে ৩০ ফুট টিলা থেকে ছুড়ে ফেলল কিশোর নিউ দিল্লি: তুচ্ছ এক নালিশের জেরে বাবার কাছে জুটেছিল মার। আর সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এক পৈশাচিক কাণ্ড ঘটাল পনেরোর এক কিশোর। যে প্রতিবেশিনী তার নামে নালিশ করেছিলেন, তাঁরই চার বছরের শিশুপুত্রকে অপহরণ করে সে। এরপর শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেয়। মধ্য দিল্লির আনন্দ পর্বত এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশ খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রজু করেছে।

নিউ দিল্লি: তুচ্ছ এক নালিশের জেরে বাবার কাছে জুটেছিল মার। আর সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এক পৈশাচিক কাণ্ড ঘটাল পনেরোর এক কিশোর। যে প্রতিবেশিনী তার নামে নালিশ করেছিলেন, তাঁরই চার বছরের শিশুপুত্রকে অপহরণ করে সে। এরপর শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু একটি টিলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেয়। মধ্য দিল্লির আনন্দ পর্বত এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশ খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রজু করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। বছর চারেকের শিশুটি নিজের বাড়ির সামনেই খেলাধুলা করছিল, তার মা তখন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন তাঁর সন্তান আশেপাশে কোথাও নেই। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭ (২) ধারায় একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতে শুরু করে এবং সেখানেই একটি দৃশ্যে শিশুটিকে দেখা যায়। ফুটেজে দেখা যায়, এক কিশোর শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্ত কিশোর নির্যাতিত শিশুটিরই প্রতিবেশী এবং তাদের পাশের বাড়িতেই সে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থাকে।

প্রায় তিন দিনের তল্লাশির পর, পুলিশ অবশেষে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। একইসাথে অভিযুক্ত কিশোরকেও আটক করা হয়। পুলিশি জেরায় সে স্বীকার করে যে শিশুটিকে বেধড়ক মারধরের পর সে টিলার উপর থেকে ফেলে দিয়েছিল। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক এবং সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কিন্তু কেন এই ভয়াবহ পদক্ষেপ নিল ওই কিশোর? পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে কিছুদিন আগে অভিযুক্ত কিশোরটি কাউকে না বলে বাড়ির মালিকের মোটরবাইকটি নিয়ে বেরিয়ে যায় এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতে বাড়ি ফেরে, কিন্তু বাইকটির কথা বেমালুম ভুলে যায়। এদিকে বাইকের খোঁজ শুরু হলে, অপহৃত শিশুটির মা জানান যে তিনি ওই কিশোরকে বাইকটি নিয়ে বেরোতে দেখেছিলেন। তাঁর কথার সূত্র ধরেই বাইকটি খুঁজে পাওয়া যায়। এই ঘটনার জন্য কিশোরটিকে তার বাবা প্রচণ্ড মারধর করেন।

বাবার এই মারের কারণে কিশোরটির মনে প্রতিবেশিনীর উপর তীব্র ক্ষোভ ও আক্রোশের জন্ম হয়। তাঁকে একটি ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সে তাঁর চার বছরের সন্তানকে অপহরণ করে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটায়। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯ (১) ধারায় খুনের চেষ্টার মামলা যুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত নাবালক, তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করা হবে।

আরও খবর