
ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান জানিয়েছে, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বাবক শাহবাজি নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির দাবি, শাহবাজি ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত বিভিন্ন স্থানের তথ্য ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে হস্তান্তর করতেন। তবে মানবাধিকার কর্মীরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাম্প্রতিককালে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা ১২ দিনের সংঘর্ষের পর থেকে ইসরায়েলের গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে এবং এই মৃত্যুদণ্ড সেই অভিযানেরই একটি অংশ। বিচার বিভাগের মিজান সংবাদ সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবক শাহবাজি ইরানের ডেটা সেন্টার এবং নিরাপত্তা স্থাপনার মতো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে বিক্রি করেছিলেন।
তবে মানবাধিকার কর্মীদের ভাষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, শাহবাজিকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে লেখা একটি চিঠি, যেখানে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সাহায্যের প্রস্তাব দেন। যেহেতু ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে আসছে, যা মস্কো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, তাই শাহবাজির ওই চিঠিকেই গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে বলে কর্মীরা মনে করেন।
ইরান হিউম্যান রাইটস নামক একটি গোষ্ঠী আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে শাহবাজিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি বলেছে, “প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া বাবকের বার্তাটিকে ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইসরায়েল নাকি বাবককে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করতে শিখিয়েছিল।” ইরান অবশ্য এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, শাহবাজি ইসমাইল ফেকরি নামে আরেক দণ্ডিত ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করতেন, যাঁকে ২০২২ সালের শুরু থেকে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত জুন মাসে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শাহবাজির আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আপিলের জন্য আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। ইরান কীভাবে শাহবাজির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তা বিস্তারিত জানায়নি, তবে সাধারণত দেশটিতে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের কয়েক দশক ধরে চলা ছায়াযুদ্ধ এই বছরের জুন মাসে ১২ দিনের সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এরপর থেকে ইরান ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে অনেককেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বুধবারের এই ঘটনাটি জুন মাসের সংঘর্ষের পর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নবম মৃত্যুদণ্ড।
