লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২৫৪

বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্য লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা, নিহত অন্তত ২৫৪ যুদ্ধ শুরুর পর লেবাননে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবারের এই ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে তারা সরে আসতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পর লেবাননে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবারের এই ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে তারা সরে আসতে পারে।

ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসিয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী একে হিজবুল্লাহর ওপর একটি ‘সারপ্রাইজ স্ট্রাইক’ বা আকস্মিক হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলার পর লেবাননের রাজধানী ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে হিমশিম খেতে হয় উদ্ধারকর্মীদের। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা সারা দেশে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি সামরিক অবস্থানে আঘাত হেনেছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে লেবাননসহ সব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই হামলা প্রসঙ্গে নীরবতা ভেঙে বলেছেন, লেবানন একটি ‘আলাদা সংঘর্ষ’ এবং এটি মূল চুক্তির অংশ নয়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের সুবিধার্থে সাধারণ মানুষকে রাস্তা খালি রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান এই চুক্তি বাতিল করতে প্রস্তুত। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান ও লেবানন দুটি ভিন্ন রণাঙ্গন। তিনি হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, ইরানকে সহায়তার জন্য হিজবুল্লাহকে চড়া মূল্য দিতে হবে এবং পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন কাসেম নিজেই।

যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম গত কয়েক ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েলে কোনো পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৈরুতের আরও গভীরে এবং মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার ইঙ্গিত দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই ১.১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ লেবাননে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং যুদ্ধের শুরু থেকে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে।

রাজনৈতিকভাবেও এই পরিস্থিতি ইসরায়েলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না, যা দেশের ইতিহাসে একটি রাজনৈতিক বিপর্যয়।

আরও খবর