
ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ ধ্বংস হওয়ার ঠিক একদিন পরেই দ্বিতীয় একটি ইরানি নৌ-যান ‘আইরিনস বুশেহর’ (Irins Bushehr)-এর নিয়ন্ত্রণ নিল শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে থাকা এই জাহাজটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চেয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর মানবিক কারণে শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি বন্দরে জাহাজটিকে ভিড়তে দেওয়া হয়। জাহাজটিতে থাকা ২০৮ জন ক্রু মেম্বারকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের কলম্বোতে নিয়ে আসা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ আন্তর্জাতিক রীতি মেনে এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার্থে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরান দ্বন্দ্বে শ্রীলঙ্কা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। কলম্বোর প্রধান বাণিজ্যিক বন্দরে জাহাজটিকে ভিড়তে দেওয়া হয়নি মূলত দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই আশঙ্কায়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ৫৩ জন অফিসার এবং ৮৪ জন ক্যাডেট অফিসার রয়েছেন। এর পাশাপাশি গত বুধবারের হামলায় নিখোঁজ হওয়া ‘আইরিস ডেনা’র বাকি নাবিকদের সন্ধানে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই শ্রীলঙ্কা জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ইরানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ২৫০ মিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল এবং তার বিনিময়ে চা রপ্তানির এক দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা হলো শ্রীলঙ্কার তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান বাজার। এই দুই দেশের সামরিক সংঘাতের মাঝে পড়ে শ্রীলঙ্কা এখন এক কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ যেখানে এই হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সাবমেরিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করেছেন, ইরান সেখানে একে ‘সমুদ্রের বুকে নৃশংসতা’ বলে অভিহিত করে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
