
ইউক্রেন ও হাঙ্গেরির মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবার চরম সংঘাতের রূপ নিল। হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ব্যাংক ‘ওশাদব্যাঙ্ক’-এর সাতজন কর্মীকে বুদাপেস্টে জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (X) তিনি দাবি করেছেন যে, হাঙ্গেরি সরকার অন্যায়ভাবে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের আটকে রেখেছে এবং এর মাধ্যমে তারা ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও চাঁদাবাজি’র পথ বেছে নিয়েছে। ওশাদব্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা দুটি গাড়িতে করে অস্ট্রিয়া থেকে ইউক্রেনে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ নিয়ে যাচ্ছিলেন, যা হাঙ্গেরি সীমান্তে বা তার আশেপাশে আটক করা হয়েছে।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গাড়ি দুটিতে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার, ৩ কোটি ৫০ লক্ষ ইউরো এবং ৯ কেজি স্বর্ণ ছিল, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার বা ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড। জিপিএস ডেটা অনুযায়ী গাড়ি দুটি বর্তমানে বুদাপেস্টে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। কিয়েভের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে হাঙ্গেরিকে একটি আনুষ্ঠানিক নোট পাঠানো হয়েছে, যেখানে অবিলম্বে ব্যাংক কর্মীদের মুক্তি এবং সমস্ত সম্পত্তি ইউক্রেনে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, হাঙ্গেরি কেবল মানুষকেই জিম্মি করেনি, বরং বিপুল পরিমাণ অর্থও কার্যত চুরি করেছে।
এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে তেল সরবরাহ এবং রাজনৈতিক বিরোধ। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘দ্রুজবা’ পাইপলাইন সংস্কারে দেরি করে হাঙ্গেরির ওপর ‘তেল অবরোধ’ চাপিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার কারণেই পাইপলাইনটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী মাসে হাঙ্গেরিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এবং জনমত সমীক্ষায় অরবানের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় তিনি ইউক্রেনকে চাপে ফেলতে ‘রাজনৈতিক ও আর্থিক হাতিয়ার’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা হাঙ্গেরি শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে।
