
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান রণক্ষেত্রের লেলিহান শিখায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিক। আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারত সরকার প্রথমবারের মতো এই যুদ্ধের ভয়াবহতায় ভারতীয়দের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্বিতীয়বারের মতো কড়া বিবৃতি জারি করল বিদেশমন্ত্রক।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই ওমান ও কুয়েতের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বাহরাইনের রাজার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উত্তেজনা প্রশমনে নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে— এমন কোনো পরিস্থিতিকে ভারত সরকার উপেক্ষা করবে না।
বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিগত কয়েক দিনে একের পর এক হামলায় কিছু ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে গিয়েছে। এই ধ্বংসলীলা ও প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।” ভারত সরকার সকল পক্ষকে শান্ত থাকার এবং চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ওমান উপকূলে একটি অয়েল ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতে এটিই প্রথম কোনো ভারতীয়র মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর এটি বিদেশমন্ত্রকের দ্বিতীয় বিবৃতি। আগেরবার উত্তেজনা প্রশমনের পরামর্শ দেওয়া হলেও, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় এবার সুর আরও কড়া করেছে নয়াদিল্লি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ ও পড়াশোনার সূত্রে থাকা ভারতীয়দের একটি বড় অংশ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
