
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে গাজা ও মিসরীয় সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ‘রাফাহ ক্রসিং’ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক কার্যক্রম সমন্বয়কারী সংস্থা ‘কোগাট’ (COGAT) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিছু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকার রাফাহ ক্রসিং সহ অন্যান্য প্রবেশপথগুলো বন্ধ থাকবে।”
গাজার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত এই রাফাহ ক্রসিং দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত মাসেই সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থীসহ অল্প সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গাজা ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং মুমূর্ষু রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
ইসরায়েলের মাসব্যাপী সামরিক অভিযানের ফলে গাজার ২০ লক্ষাধিক মানুষের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এই ছিটমহলটি বর্তমানে পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ জানিয়েছিল যে, গাজায় জীবন রক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তারা ক্রমাগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজার ভেতরে ওষুধ, পুনর্নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তবে ‘কোগাট’ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় যে পরিমাণ খাদ্য প্রবেশ করেছে তা সেখানকার জনসংখ্যার পুষ্টিচাহিদার চারগুণেরও বেশি। যদিও তারা এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থাটি বলেছে, “যুদ্ধবিরতির পর থেকে যে পরিমাণ খাবার সরবরাহ করা হয়েছে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যাপ্ত। তাই সীমান্ত বন্ধ রাখলে গাজার মানবিক পরিস্থিতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।” তারা আরও জানিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং পরিস্থিতির আপডেট প্রদান করবে।
উল্লেখ্য, ‘কোগাট’ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি অংশ যা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক বিষয়গুলো তদারকি করে। তবে সমালোচকদের মতে, এই সংস্থাটি মূলত নজরদারি এবং ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
