পাকিস্তানে পোলিও মিশন ও এপস্টাইন কানেকশন: মানবিক সেবার আড়ালে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ

বিশ্ব, স্বাস্থ্য পাকিস্তানে পোলিও মিশন ও এপস্টাইন কানেকশন: মানবিক সেবার আড়ালে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের পরিচালিত পোলিও নির্মূল কর্মসূচির সময় জেফরি এপস্টাইন সংবেদনশীল সামরিক গোয়েন্দা তথ্য হাতে পেয়েছিলেন বলে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কিছু ফাঁস হওয়া নথিপত্র এবং ভিডিওর ভিত্তিতে এই দাবি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির নৈতিকতা ও এর পেছনের গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের পরিচালিত পোলিও নির্মূল কর্মসূচির সময় জেফরি এপস্টাইন সংবেদনশীল সামরিক গোয়েন্দা তথ্য হাতে পেয়েছিলেন বলে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কিছু ফাঁস হওয়া নথিপত্র এবং ভিডিওর ভিত্তিতে এই দাবি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির নৈতিকতা ও এর পেছনের গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জেফরি এপস্টাইনকে দাবি করতে দেখা গেছে যে, তার অর্থের একটি বড় অংশ ভারত ও পাকিস্তানে পোলিও নির্মূলের কাজে ব্যয় হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, এই জনহিতকর কাজের আড়ালে তিনি এবং তার নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। গেটস ফাউন্ডেশনের সাথে এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠতা এবং পাকিস্তানের তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে তার যোগাযোগের বিষয়টি এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আতশ কাঁচের নিচে।

বিশ্লেষকদের মতে, পোলিও টিকাদান কর্মসূচির জন্য পাকিস্তানের প্রত্যন্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের যে অনুমতি পাওয়া যায়, তা অনেক ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে সিআইএ (CIA) ডা. শাকিল আফ্রিদির মাধ্যমে একটি ভুয়া টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছিল। এপস্টাইনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জনহিতকর কাজের আড়ালে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।

বিল গেটস এবং জেফরি এপস্টাইনের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি গেটস ফাউন্ডেশনের ভারত ও আফ্রিকার প্রধান অংকুর ভোরা একটি সম্মেলনে বিল গেটসের পরিবর্তে বক্তব্য দেন, যেখানে গেটসের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের বিষয়টিকে দায়ী করা হচ্ছে। এপস্টাইনের মেইলগুলোতে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং পোলিও কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য পাওয়া গেছে, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

এই তথ্যগুলো সামনে আসার পর পাকিস্তানে পোলিও টিকাদান কর্মসূচির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি পোলিও অভিযানের মতো মানবিক কাজকে গোয়েন্দা তৎপরতা বা ‘ডার্টি মানি’ (Dirty Money)-র সাথে যুক্ত করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

এখন পর্যন্ত গেটস ফাউন্ডেশন বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সামরিক গোয়েন্দা তথ্য চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও খবর