
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিয়েছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ইরানি নেতৃত্ব নির্মূল, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস এবং নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social) এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ইরানি জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি সম্ভবত প্রজন্মের পর প্রজন্মের মধ্যে আপনাদের একমাত্র সুযোগ।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আলোচনার একটি কৃত্রিম আবহ তৈরি করেছিল। আগামী সোমবার ভিয়েনায় পারমাণবিক বিষয়ে কারিগরি আলোচনার কথা ছিল এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মধ্যস্থতার জন্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-র আওতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সিরিয়া, জর্ডান এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন ৫ম নৌবহরের রাডার স্টেশনে হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফোয়াদ ইজাদি বলেন, “ইরান কোনো ছোট সংস্থা নয়, এটি ৯০ কোটি মানুষের একটি দেশ। আগ্রাসনকারীরা পরাজিত হবে এবং ইরান টিকে থাকবে।”
সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের এই পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কোনো দেশের ওপর নয়, বরং আত্মরক্ষার্থে সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করায় আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বীর সেনাদের প্রাণের ঝুঁকি থাকলেও একটি “মহৎ লক্ষ্য” অর্জনে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
