মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে নজিরবিহীন বিভ্রাট: জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ দেখাল নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ, রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে নজিরবিহীন বিভ্রাট: জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ দেখাল নির্বাচন কমিশন কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের আবহেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরে নজিরবিহীন বিভ্রান্তি। এসআইআর (SIR) পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একাধিক ‘জীবিত’ ভোটারকে নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের আবহেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরে নজিরবিহীন বিভ্রান্তি। এসআইআর (SIR) পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একাধিক ‘জীবিত’ ভোটারকে নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

তালিকায় এই বড়সড় অসঙ্গতির চিত্রটি ধরা পড়েছে ভবানীপুরের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯৩ নম্বর পার্টে। ওই এলাকার বাসিন্দা কুসুম দুবে এবং দীপালি বর্মন অভিযোগ করেছেন, তাঁরা প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ (Deleted) লিখে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, কমিশন কার্যত তাঁদের অস্তিত্বহীন বা মৃত বলে গণ্য করেছে।

ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের প্রশ্ন, পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও তাঁদের দুজনকে কেন এভাবে বাদ দেওয়া হলো? শুধু তাই নয়, এই কেন্দ্রে এমনও অভিযোগ উঠেছে যে, মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় বহাল রয়েছে অথচ জীবিতরা ব্রাত্য। এমনকি, শুনানিতে ডাক না পাওয়া সত্ত্বেও অনেক ভোটারের নামের পাশে ‘অ্যাজুডিকেশন’ লিখে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এই বিভ্রান্তি নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর তথা কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো চেয়ারম্যান দেবলীনা বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র তাঁর ওয়ার্ডেই নয়, ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকায় যত সময় যাচ্ছে ততই নতুন নতুন সমস্যা সামনে আসছে। জীবিত ভোটারকে মৃত দেখানোর এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত হয়রানি হিসেবে দেখছেন তিনি।

খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় থেকেই নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছিল। এবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে এই ধরনের ভুল ধরা পড়ায় কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শাসকদল। অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কারও নাম ভুলবশত বাদ গিয়ে থাকে, তবে আইনত তা চ্যালেঞ্জ করার বা পুনরায় আবেদনের সুযোগ রয়েছে। তবে এত প্রস্তুতির পরেও কেন এই ধরনের ভুলভ্রান্তি রয়ে গেল, তা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।

আরও খবর