
কলকাতা: রাজ্য জুড়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভোটার তালিকার আংশিক প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। শনিবার বিকেলে প্রকাশিত এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম এখনও কমিশনের ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ, এই নামগুলি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়বে নাকি অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষই উত্তরবঙ্গের তিনটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলার।
জেলার পরিসংখ্যানে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ প্রবণতা
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিবেচনাধীন নামের সিংহভাগই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জেলাগুলি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এই পাঁচটি জেলাতেই মোট বিবেচনাধীন নামের ৫০ শতাংশের বেশি অবস্থান করছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
খসড়া তালিকা থেকে শুরু করে শনিবারের আংশিক প্রকাশ পর্যন্ত রাজ্যে ভোটার সংখ্যার যে রদবদল ঘটেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
- খসড়া তালিকায় মোট নাম: ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০।
- এযাবৎ মোট বাদ পড়া নাম: ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ (শনিবার নতুন করে বাদ যাওয়া ৫,৪৬,০৫৩ জন সহ)।
- নতুন সংযোজন: ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন (৬ নম্বর ফর্ম) এবং ৬,৬৭১ জন (৮ নম্বর ফর্ম)।
- বর্তমান চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা: ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪।
বিবেচনাধীন তালিকার জেলাভিত্তিক বিন্যাস দেখে শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি দানা বেঁধেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে ইতিমধ্যেই এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে দলের অনেক নেতাই ব্যক্তিগত আলোচনায় এই প্রবণতাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনা এবং উত্তরবঙ্গের নির্দিষ্ট জেলাগুলিতে বিপুল সংখ্যক নাম আতশকাচের তলায় থাকায় বুথভিত্তিক তথ্য খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসকদল।
অন্যদিকে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ৬০ লক্ষ নামকে এখনই ‘বাতিল’ বলা সমীচীন নয়। স্ক্রুটিনি বা যাচাই পর্ব শেষে এর একটি বড় অংশ চূড়ান্ত তালিকায় ফিরে আসতে পারে। তবে নাম বাদের এই ভৌগোলিক প্রবণতা যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা স্পষ্ট।
