এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনআরসি নোটিস, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে কেন্দ্রকে তীব্র হুঁশিয়ারি মমতার

পশ্চিমবঙ্গ, রাজনীতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনআরসি নোটিস, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’ বলে কেন্দ্রকে তীব্র হুঁশিয়ারি মমতার কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রস্তুতি শুরু হতেই তীব্র বিরোধিতায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই প্রক্রিয়াকে এনআরসি-র ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ জন্য হুঁশিয়ারি দেন। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই বিষয়ে রাজ্যের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন।

কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) প্রস্তুতি শুরু হতেই তীব্র বিরোধিতায় নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই প্রক্রিয়াকে এনআরসি-র ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ জন্য হুঁশিয়ারি দেন। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই বিষয়ে রাজ্যের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করতে গিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের নাগরিকের নাম বাদ পড়লে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হতে পারে। তিনি রাজ্যের বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, “বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি ও কাগজপত্র ভেসে গিয়েছে। এই মুহূর্তে তারা কীভাবে নথি দেখাবেন? অনেকে আবার উৎসবের ছুটিতে রাজ্যের বাইরে আছেন।” এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

নদিয়ার দুজন নাগরিককে সম্প্রতি ‘এনআরসি নোটিস’ পাঠানোর ঘটনা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, এসআইআর-এর নামে এনআরসি নোটিস কেন পাঠানো হলো? কোন অধিকারে অসম সরকার বাংলার মানুষকে নোটিস পাঠাচ্ছে? সামনে এসআইআর, কিন্তু পিছনে আসল উদ্দেশ্য কী? গায়ের জোরে এনআরসি করার চেষ্টা কোনোদিন সফল হবে না। তাঁর মতে, এটি আসলে ভোটের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একটি চক্রান্ত এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ‘গৈরিকীকরণের’ চেষ্টা চলছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী সরব হন। শান্তনু ঠাকুর দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? এর পিছনে কি মীরজাফরের সিদ্ধান্ত কাজ করছে?” তিনি আরও বলেন, “আপনারা বাংলার বকেয়া আটকে রাখেন, কিন্তু ভোটের সময় আপনাদের টাকার অভাব হয় না। মনে রাখবেন, বাংলার মানুষ সংগ্রামী, তারা লড়াই করে নিজেদের অধিকার বুঝে নেবে।”

একই সঙ্গে রাজ্যে আসা নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদলের কার্যকলাপ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে কমিশনের দলটি কোলাঘাটে বুথস্তরের নির্বাচনী আধিকারিকদের (বিএলও) সঙ্গে বৈঠক করে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখনও তো রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়নি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে যায়নি। তাহলে কেন বিএলও-দের নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে?” নাম না করে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “বেড়ে খেলবেন না, দুর্নীতির অনেক অভিযোগ জমা আছে, সময়মতো সব প্রকাশ করব।”

আরও খবর