ট্রাম্পের গাজা চুক্তিতে ইজরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদন, প্রশস্ত হলো যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের পথ

মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্পের গাজা চুক্তিতে ইজরায়েলি মন্ত্রিসভার অনুমোদন, প্রশস্ত হলো যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের পথ ফিলিস্তিন: ইজরায়েলি মন্ত্রিসভা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা চুক্তি অনুমোদন করেছে, যা যুদ্ধবিরতি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিন: ইজরায়েলি মন্ত্রিসভা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা চুক্তি অনুমোদন করেছে, যা যুদ্ধবিরতি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, হামাসের হাতে বন্দি ইজরায়েলিদের মুক্তির বিনিময়ে ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি সহ আরও ১,৭০০ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। মুক্তি পেতে চলাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু, যাদের যুদ্ধের শুরু থেকে আটক করা হয়েছিল। চুক্তি বাস্তবায়নের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ২৯শে সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই ২০-দফা পরিকল্পনায় ইজরায়েলিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরা গাজায় ইজরায়েলি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে সহায়তা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন ইজরায়েলি বন্দিদের সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে মুক্তি দেওয়া উচিত এবং তিনি মিশরে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি এবং এটি “দীর্ঘস্থায়ী শান্তি” নিয়ে আসবে”।

হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আরব মধ্যস্থতাকারী এবং তুরস্কের কাছ থেকে এই মর্মে নিশ্চয়তা পেয়েছে যে গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।

তবে, এই চুক্তির মধ্যেই ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দেশটির অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি হামাসকে শেষ পর্যন্ত ভেঙে না দেওয়া হয়, তবে তার দল কট্টরপন্থী ‘জিউইশ পাওয়ার পার্টি’ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে, গাজার যুদ্ধবিরতি “তদারকি” করার জন্য ২০০ সদস্যের একটি মার্কিন সামরিক দলকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হবে বলে বৃহস্পতিবার সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই দলের নেতৃত্ব দেবেন। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “তার ভূমিকা হবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং শান্তি চুক্তির কোনো লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জানান, এই দলে মিশরীয়, কাতারি, তুর্কি এবং সম্ভবত আমিরাতি সামরিক কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

অন্য একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, “কোনো মার্কিন সেনার গাজায় প্রবেশ করার উদ্দেশ্য নেই।”

আরও খবর